(Final) Model Activity Task Class 9 Bengali Part 8 | নবম শ্রেণীর বাংলা মডেল অ্যাক্টিভিটি টাস্ক

Model Activity Task Class 9 Bengali Part 8

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো:

১.১ ঈশান হলো
ক) উত্তর-পূর্ব কোণ
খ) উত্তর-পশ্চিম কোণ
গ) দক্ষিণ-পূর্ব কোণ
ঘ) পশ্চিম কোণ

উত্তরঃ ঈশান হলো উত্তর-পূর্ব কোণ

১.২ ‘আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে? – প্রশ্নটি করেছে
ক) সূচক
খ) জানুক
খ) ধীবর
ঘ) রাজশ্যালক

উত্তরঃ ‘আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে’? – প্রশ্নটি করেছে ধীবর

১.৩ ‘বন্ধুগণ হাসবেন না’। – একথা বলেছে
ক) ইলিয়াস
খ) শাম-শেমাগি
গ) মহম্মদ শা
ঘ) মহম্মদ শার জনৈক আত্মীয়

উত্তরঃ ‘বন্ধুগণ হাসবেন না’। – একথা বলেছে ইলিয়াস

১.৪ ‘মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ।’ বক্তার লাভ হয়েছিল
ক) পাঁচ টাকা
খ) দশ টাকা
গ) পনেরো টাকা
ঘ) কুড়ি টাকা

উত্তরঃ ‘মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ।’ বক্তার লাভ হয়েছিল দশ টাকা

১.৫ ‘নোঙর’ কবিতাটি যে কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত –
ক) কুসুমের মাস
খ) শাদা মেঘ কালো পাহাড়
গ) পাতাল কন্যা
ঘ) ছায়ার আলপনা

উত্তরঃ ‘নোঙর’ কবিতাটি ‘শাদা মেঘ কালো পাহাড়’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত

সরকারি ও বেসরকারি চাকরির খবরের জন্য জয়েন করুন আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল

২. কম-বেশি ১৫টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো :

২.১ …….. প্ৰজা চমকিত।’ – প্ৰজা চমকিত কেন?

উত্তরঃ  কলিঙ্গদেশে বিধ্বংসী ঝড় বৃষ্টির তাণ্ডবে সমগ্র প্রকৃতি ধুলোয় ছেয়ে যায় এবং শস্য ক্ষেতের ফসল নষ্ট হওয়ায় আতঙ্কে  প্রজা চমকিত হয়।

২.২ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে ধীবরের বাড়ি কোথায়?

উত্তরঃ ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে উল্লেখিত ধীবরের বাড়ি ছিল শক্রাবতারে।

২.৩ ‘ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ’– কারা একথা বলত?

উত্তরঃ ‘ইলিয়াস তো ভাগ্যবান পুরুষ’একথা বলত ইলিয়াসের প্রতিবেশীরা।

২.৪ ‘মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।’ — কখন এমনটি ঘটেছে?

উত্তরঃ কথকের মাস্টারমশাইয়ের কথা মনে এসেছিল যখন একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ এসেছিল।

২.৫ ‘……. বিরামহীন এই দাঁড় টানা।’ – কবি দাঁড় টানাকে ‘বিরামহীন’ বলেছেন কেন?

উত্তরঃ কবি দাঁড় টানাকে বিরামহীন বলেছেন কারণ তার এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে কখনো ফুরিয়ে যায় না।

২.৬ ‘হিন্দি উপস্থিত সেই চেষ্টাটা করছেন’ – কোন্ চেষ্টার কথা প্রাবন্ধিক বলেছেন?

উত্তরঃ সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত অংশটি গৃহীত। ভাষা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অর্থ হলো ভাষার নিজস্বতা থাকা। কিন্তু লেখক দেখেছেন ভাষার মধ্যে বিভিন্ন ভাষার অবাধ প্রবেশ এবং সেই প্রবেশ বন্ধ করার বিষয়ে হিন্দি সাহিত্যিকের চেষ্টার কথা প্রাবন্ধিক বলেছেন।

২.৭ এরই মাঝে বাংলার প্রাণ’ – কবি কোথায় বাংলার প্রাণের সন্ধান পেয়েছেন?

উত্তরঃ ‘আকাশের সাতটি তারা’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ নরম ধানের গন্ধ, কলমি শাকের ঘ্রাণ, হাঁসের পালক, শহরের বন, চাঁদা সরপুঁটি মাছ, এদের মৃদু আশাটে ঘ্রাণ, কিশোরের পায়ে গলার মুথা ঘাস, লাল বর্ণের ব্যথিত গন্ধের ক্লান্ত নীরবতা এই সমস্ত কিছুর মাঝেই বাংলা প্রাণের সন্ধান পেয়েছে।

২.৮ ‘এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে’ – পত্রলেখকের দৃঢ় বিশ্বাসটি কী?

উত্তরঃ পত্রলেখক অর্থাৎ স্বামী বিবেকানন্দের দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে, ভারতের কাজে মিস নোবেল এর এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে।

২.৯ ‘যা গিয়ে ওই উঠানে তোর দাঁড়া’ – সেখানে গিয়ে দাঁড়ালে কোন্ দৃশ্য দেখা যাবে?

উত্তরঃ কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, ‘আবহমান’ কবিতায় জানিয়েছেন, উঠানে লাউ মাচাটার পাশে দাঁড়ালে দেখা যাবে ছোট্ট একটা ফুল সন্ধ্যার বাতাসে ক্রমাগত দুলছে।

২.১০ ‘তোমার বাড়ি কোথায়?’ – রাধারাণী এই প্রশ্নের উত্তরে কী বলেছিল?

উত্তরঃ রাধারাণী উদ্ধৃত প্রশ্নের উত্তরে বলেছিল যে তার বাড়ি শ্রীরামপুরে।


৩. প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কম-বেশি ৬০টি শব্দের মধ্যে উত্তর লেখো :

৩.১ ‘আমার বাণিজ্য-তরী বাঁধা পড়ে আছে। – কোন্ বাণিজ্য-তরী? সেটি বাঁধা পড়ে আছে কেন?

উত্তরঃ প্রাচীন ও মধ্যযুগের সওদাগর বানিজ্য তরী নিয়ে পাড়ি দিত দূর দেশে। পণ্যের আমদানি রপ্তানির সঙ্গে সংস্কৃতির আদান-প্রদান চলত। কবি সাধারণ সওদাগর নন তাই তিনি স্বপ্ন কল্পনা সাহিত্য ভরা-তরী নিয়ে পাড়ি দিতে চান সাত সমুদ্র পাড়ে। দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে চান তাঁর সৃষ্টিকে। তাই এখানে বাণিজ্য তৈরীর প্রসঙ্গ এসেছে।

বাণিজ্য ও ব্যবসার সঙ্গে লাভ লোকসানের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। জীবিকার জালে আটকে পড়েছে আমাদের জীবন। তাই সেটি বাঁধা পড়ে আছে।

৩.২ ‘সংস্কৃত ভাষা আত্মনির্ভরশীল।’ — প্রাবন্ধিক কেন এমন মন্তব্য করেছেন?

উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশ টি সৈয়দ মুস্তাফা আলী রচিত ‘নব নব সৃষ্টি’ প্রবন্ধ থেকে গৃহীত হয়েছে। সংস্কৃত ভাষার আত্মনির্ভরতার কারণ প্রাবন্ধিক দীর্ঘদিন বিভিন্ন ভাষা নিয়ে চর্চার মধ্য দিয়ে লক্ষ্য করেছিলেন নতুন কোনো চিন্তা, অনুভূতি বা বাস্তব কে বোঝানোর জন্য নতুন শব্দের প্রয়োজন হলে সংস্কৃত ভাষা অহেতুক অন্য ভাষা থেকে শব্দ ধার করে না। সংস্কৃত ভাষা এক নিজস্ব ধাতু, শব্দ একটু অদল বদল সংস্কৃত ভাষা নতুন করে তৈরি করতে পারে। এই বিশেষ ক্ষমতার জন্য সংস্কৃত স্বয়ংসম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল ভাষা বলে প্রাবন্ধিক এমন মন্তব্য করেছেন।

৩.৩ ‘আমি এই ঘাসে বসে থাকি’ – কোন্ সময়ে কবি ঘাসে বসে থাকেন? তখন প্রকৃতির কেমন রূপ তাঁর চোখে ধরা পড়ে?

উত্তরঃ সন্ধ্যার সময় কবি ঘাসে বসে থাকেন ।

কবির চোখে তার অতি প্রিয় রূপসি বাংলা সন্ধ্যার সময় যে রূপে ধরা দিয়েছে তাকেই তিনি শব্দের জাদুতে প্রকাশ করেছেন। সবে যখন সূর্য অস্ত গিয়ে আকাশে দেখা দিয়েছে সপ্তর্ষিমণ্ডল’ তখন অস্তরাগের শেষ আভায় টুকটুকে লাল মেঘ বিলীন হয় সাগরজলে। দিন আর রাত্রির সেই সন্ধিক্ষণে কবির মনে হয় যেন এক এলোকেশী কন্যা দেখা দিয়েছে বাংলার সাশ্যা নীল আকাশে।

মাটির বুকে ধীরে ধীরে নেমে আসা অন্ধকার যেন সেই মেয়ের ছড়িয়ে পড়া কালো চুলের রাশি। কবি তাঁর চোখ-মুখ-নাক অর্থাৎ ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করেন সেই ঘনিয়ে আসা আঁধারকে। শুধু চোখ বা ত্বক দিয়ে নয় কবি গন্ধ দিয়েও অনুভব করেন সন্ধ্যাকে।

৩.৪ ‘নটেগাছটা বুড়িয়ে ওঠে, কিন্তু মুড়য় না।’– উদ্ধৃতাংশে নটেগাছের প্রসঙ্গ উত্থাপনে ‘আবহমান’ কবিতায় ‘রূপকথা’র আবেশ কীভাবে রচিত হয়েছে, বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তার “আবহমান’ কবিতায় দেখিয়েছেন যে, একদা মানুষ নিবিড় অনুরাগে ঘর বেঁধেছিল প্রকৃতি গ্রামবাংলায়। পরবর্তীকালে গ্রামসভ্যতার সমৃদ্ধি নষ্ট হয়ে যায় নাগরিক সভ্যতার আগ্রাসনে। কিন্তু প্রকৃতি সেখানে নিজের হাতে একইভাবে সাজিয়ে রাখে, জীবন বয়ে চলে স্বচ্ছন্দ সহজ ছন্দে। আর শহরের ক্লান্ত মানুষেরা শান্তির খোঁজে বারবার ফিরে আসে তার কাছে। ‘নটে গাছটা বুড়িয়ে ওঠে। কিন্তু ‘মুড়য় না’ অর্থাৎ তার গ্রহণযোগ্যতা শেষ হয় না।

৩.৫ ‘… আর আহারের সংস্থান রহিল না।‘ – রাধারাণী ও তার মায়ের দুর্গতির চিত্র ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে কীভাবে চিত্রিত হয়েছে, তা উদ্ধৃতাংশের আলোকে আলোচনা করো।

উত্তরঃ  ‘রাধারাণী’ পাঠ্যাংশে দেখা যায়, একজন জ্ঞাতির সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে মামলায় রাধারাণীর বিধবা মা হাইকোর্টে হেরে যায়। জ্ঞাতি ডিক্রি জারি করে তাদের পিতৃপুরুষের ভিটে থেকে উচ্ছেদ করে দশ লক্ষ টাকার সম্পত্তির দখল নেয়। খরচ এবং পাওনা শোধ করতে বাকি সব অর্থ চলে যায়। গয়না ইত্যাদি বিক্রি করে রাধারাণীর মা প্রিভি কাউন্সিলে আপিল করলেও খাবার জোগাড়ের অবস্থা তাদের আর থাকে না।


৪. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (কম-বেশি ১৫০ শব্দ) :  ৫ × ২ = ১০

৪.১ “নিরবধি সাতদিন বৃষ্টি নিরন্তর।’ — এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় কলিঙ্গবাসীর জীবনকে কীভাবে বিপন্ন করে তুলেছিল তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড় বৃষ্টি’ কাব্যাংশটিতে কলিঙ্গদেশে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কলিঙ্গদেশে অবিরাম সাতদিনের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে চলে ঘোর তান্ডব। সমগ্র দেশ জলে প্লাবিত হয়, শস্য ক্ষেতের বিপুল ক্ষতি হয়, বৃষ্টিতে প্রজাদের ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। প্রবল বর্ষণের সঙ্গেই অসংখ্য শিল পরতে থাকে। ভাদ্র মাসের তালের মত বড় শিলার আঘাতে ঘরের চাল ভেঙে যায়।

দেবী চণ্ডীর আদেশে পবন পুত্র বীর হনুমান ঝড় উঠিয়ে কলিঙ্গদেশে ধ্বংসলীলা চালান। তার দাপটে মঠ, অট্টালিকা সব ভেঙে খান খান হয়ে যায়। দেবীর আদেশের নদনদী কলিঙ্গদেশের দিকে ধেয়ে আসে। বিরাট বিরাট ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর মাটিতে পড়ে যায়। জলে-স্থলে একাকার হয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সাপ আশ্রয় হারিয়ে ফেলে ভেসে বেড়ায়। কলিঙ্গদেশের স্থলভূমি জলে পূর্ণ হয়। প্রজারা শঙ্কিত হয়ে পরিত্রান পাওয়ার জন্য ঋষি জৈমিনি স্মরণ করতে থাকে।  সাতদিনের অবিরাম বৃষ্টি তে শংকিত ও বিপদগ্রস্ত কলিঙ্গদেশের প্রজাদের দুর্দশার চরমে ওঠে।

৪.২ ‘চিঠি’  অনুসরণে স্বামী বিবেকানন্দের বিদেশী ভক্ত ও অনুগামীদের পরিচয় দাও।

উত্তরঃ ‘স্বামীজি চিঠিতে প্রথমেই যার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন মিস নোবেল অর্থাৎ, মিস নোবেলকেই তিনি চিঠিটি লিখেছেন। মিস মার্গারেট নোবেল স্বামীজির কাছে দীক্ষা গ্রহণ করেন এবং তারই আদর্শে ভারতের নারীসমাজের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেন। কলকাতার বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। যেটির নাম ‘নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়।

দ্বিতীয় জন হলেন মি স্টার্ডি, স্বামী বিবেকানন্দের একজন ইংরেজ ভক্ত যিনি ইংল্যান্ডে বেদান্ত প্রচারের কাজে স্বামিজীকে সাহায্য করেন।

মিস হেনরিয়েটা মুলার স্বামীজিকে বেলুড় মঠ স্থাপনের কাজে অর্থ সাহায্য করেছিলেন। মিস মুলারের বাড়িতে স্বামীজি কিছুদিন অতিথি হিসাবে ছিলেন। স্বামীজি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তার কিছুটা রুক্ষ মেজাজ ও অস্থিরচিত্ত রয়েছে; তবে তিনি আবার সহৃদয় ও অমায়িক।

মিসেস সেভিয়ার সম্পর্কে স্বামীজি খুব প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, মিসেস সেভিয়ার খুবই স্নেহময়ী। তাঁর স্বামী ক্যাপটেন জে. এইচ. সেভিয়ার। এই সেভিয়ার দম্পতিই একমাত্র ইংরেজ যাঁরা এদেশীয়দের ঘৃণা করেন না।

স্বামীজির দুজন বন্ধু হলেন মিস ম্যাকলাউড ও বস্টনের মিসেস বুল। চিঠি তে তাদের বিষয়ে জানাতে স্বামীজি লিখেছেন তাঁরা খুবই উপকারি। স্বামীজিকে নানান কাজে সাহায্য করেছেন ম্যাকলাউড, আর মিসেস বুল বেলুড় মঠ স্থাপনে অনেক অর্থ সাহায্য করেছেন।


৫. নীচের প্রশ্নটির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো (কম-বেশি ১৫০ শব্দ):

‘কর্ভাস যে এখন সাধারণ কাকের থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে চায়, তার স্পষ্ট প্রমাণ আজকে পেলাম।’ প্রোফেসর শঙ্কু কীভাবে সেই প্রমাণ পেয়েছেন?

উত্তরঃ সত্যজিৎ রায় রচিত ‘কর্ভাস’ গল্পে প্রোফেসর শঙ্কুর তৈরি ‘অরনিথন’ যন্ত্রের মাধ্যমে দু-সপ্তাহের মধ্যে কর্ভাসের শিক্ষায় অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছিল। আর তারপর থেকেই সে নিজেকে অন্য সাধারণ কাকেদের থেকে আলাদা মনে করতে শুরু করে। একদিন দুপুরে হঠাৎ খুব বৃষ্টি শুরু হয়, সঙ্গে বিদ্যুৎ ও বজ্রপাত।

তিনটে নাগাদ এক কান ফাটানো বাজ পড়ার শব্দ হলে প্রোফেসর শঙ্কু জানালার কাছে গিয়ে দেখেন তার বাগানের বাইরের শিমুল গাছটা থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। বিকেলে বৃষ্টি থেমে গেলে বাইরে কাকেদের প্রচণ্ড কোলাহল শোনা যায়। সে অঞ্চলের সব কাক ওই মরা গাছটার কাছে এসে কোলাহল করতে শুরু করে। প্রোফেসর তাঁর চাকর প্রহ্লাদকে ব্যাপারটা দেখতে পাঠালে, সে ফিরে এসে জানায় যে ওই গাছটার নীচে একটা কাক মরে পড়ে আছে। তাই কাকেরা এত চ্যাচাচ্ছে। বোঝা যায় ওই বাজ পড়ার ফলেই ঝাকটার মৃত্যু হয়েছে।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল— যেখানে কাকেরা এসে জড়ো হয়েছে, সেখানে কর্ভাস প্রোফেসরের ঘর থেকে বেরোনোর কোনোরকম কোনো আগ্রহ দেখায়নি। সে একমনে তখন পেনসিল দিয়ে ‘প্রাইম নাম্বারস্‌’ অর্থাৎ মৌলিক সংখ্যা লিখছিল। এই ঘটনায় প্রোফেসর শঙ্কু বুঝতে পারেন যে কর্ভাস নিজেকে সাধারণ কাকেদের থেকে আলাদা করে রাখতে চায়।


৬. নির্দেশ অনুযায়ী উত্তর দাও

৬.১ ধাত্ববয়ব প্রত্যয়ের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ চল্ + ই = চালি

৬.২ মৌলিক শব্দ বলতে কী বোঝ?

উত্তরঃ সংস্কৃত থেকে যেসব শব্দ অবিকৃতভাবে বা পরিবর্তিত আকারে বাংলায় এসেছে, তাদের বলা হয় মৌলিক শব্দ।

৬.৩ নবগঠিত শব্দকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় এবং কী কী?

উত্তরঃ বাংলা শব্দভাণ্ডারে নবগঠিত শব্দ আবার দু-প্রকার। [১] মিশ্র বা সংকর শব্দ এবং [২] অনুদিত শব্দ।

৬.৪ তামিল শব্দভাণ্ডার থেকে বাংলায় এসেছে এমন দুটি শব্দ লেখো।

উত্তরঃ তামিল শব্দভাণ্ডার থেকে বাংলায় এসেছে এমন দুটি শব্দ  হল চুরুট, চেট্টি

৬.৫ কাছের ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করতে কোন সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়?

উত্তরঃ কাছের ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করতে সামীপ্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন ইনি উনি, এটা ওই ইত্যাদি।


৭. ভাবসম্প্রসারণ করো :

‘ধর্মের নামে মোহ এসে যারে ধরে

অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে।‘

উত্তরঃ মানুষের জীবনে কর্মের পাশাপাশি ধর্ম হল একটি বড় গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু যখন ধর্ম যখন প্রকৃত শিক্ষার গন্ডিকে অতিক্রম করে, মানুষের মধ্যে মোহ সৃষ্টি করে তখন সে অন্ধের মত ধর্মের কুসংস্কার মেনে চলে। গোঁড়া ধর্ম অনুসরণকারী কোনো প্রশ্ন না করেই ধর্মের অনুশাসন মেনে নেয় এবং তাঁর সংস্পর্শে থাকা সকলকে প্রভাবিত করে।

তখন তাঁর তথাকথিত ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানের জন্য, অপরকে শুধু তাড়না করে, কেউ প্রশ্ন করলে সদুত্তরের বদলে জোটে দুর্বার প্রতিরোধ।ধর্মের অন্ধকার নিজের জীবনের পাশাপাশি অন্যের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।ধর্ম সম্পর্কে মানুষকে অন্ধ বিশ্বাসী না হয়ে সচেতন হতে হবে। আমাদের ব্যবহারিক জীবনকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক করার জন্য ধর্মকে উপস্থাপন করা হয়েছে এটা কখনোই ভুলে গেলে চলবে না আর তাই ধর্মকে ধর্ম হিসেবে নেওয়া উচিত।

Table of Contents

Leave a Comment